দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। যুদ্ধের অবসান হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক পুরোপুরি পুনঃস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন পুতিন।
মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা ফোনালাপ হয়। এর আগে সপ্তাহান্তে ইউক্রেন ও রাশিয়া সফর করেন ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। স্থবির হয়ে থাকা শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতেই তাঁরা মস্কো ও কিয়েভ সফর করেন।
তবে তাঁদের সফরের পরপরই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। যদিও রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিনও এমন সম্ভাবনা নাকচ করেনি। তবে পুতিন-ট্রাম্প ফোনালাপের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, দুই নেতা মার্কিন দূতদের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। পুতিন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্পকে নিজের মতামত জানান। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরেন তিনি।
উশাকভ বলেন, ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে তিনি দ্রুত যুদ্ধের অবসান চান। তাঁর ভাষায়, সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক পুরোপুরি পুনঃস্থাপনের বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর প্রভাব দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেও পড়বে এবং উভয় দেশই বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে। ট্রাম্প তাঁর প্রেসিডেন্ট মেয়াদেই এ বিষয়ে অগ্রগতি দেখতে চান এবং পুতিনও এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই সংঘাতের অবসান নিয়ে এখনো রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়িয়েছে।
ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি এর আগে জানিয়েছিলেন, পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি পুতিন। তবে কিয়েভ যেকোনো মূল্যে এর বিরোধিতা করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
উশাকভ জানান, ফোনালাপে পুতিন ও ট্রাম্প বন্দিবিনিময় অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও একমত হয়েছেন। তিনি আলোচনার বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দুই নেতার কথোপকথনকে গঠনমূলক হিসেবে বর্ণনা করেন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও ফোনে যোগাযোগ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে ইউরোপকে ঘিরে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা নেই বলে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন পুতিন। উশাকভ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার কথিত আগ্রাসী পরিকল্পনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার হুমকির যে ধারণা ছড়ানো হচ্ছে, তা ইউক্রেনকে আরও সহায়তা এবং নিজেদের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/